ঈদে মিলাদ-উন-নবী (ﷺ)

কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে এর ধর্মীয় ও আইনগত মর্যাদার একটি পূর্ণাঙ্গ পর্যালোচনা।

মিলাদ পরিচিতি

মিলাদের অর্থ, তাৎপর্য ও উদ্দেশ্য।

মিলাদ কী?

"মিলাদ" শব্দটি আরবি "বিলাদত" থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ জন্ম। শাব্দিকভাবে, মিলাদ বলতে জন্মের সময় ও স্থানকে বোঝায়। শরীয়তের আলোকে, মিলাদ হলো প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (ﷺ) এর পবিত্র জন্মের সময় সংঘটিত ঘটনাবলীর স্মরণ করা। এই উপলক্ষে আমরা দরুদ ও সালামের হাদিয়া পেশ করি এবং মানুষের সামনে নবী (ﷺ) এর গুণাবলী ও প্রশংসা বর্ণনা করি। এটি শুধুমাত্র একটি বার্ষিক অনুষ্ঠান নয়, বরং নবী (ﷺ) এর প্রতি ভালোবাসা এবং তাঁর আদর্শকে নিজেদের জীবনে প্রতিফলিত করার একটি মাধ্যম।

প্রমাণের ভিত্তি

মিলাদ উদযাপনের পক্ষে উপস্থাপিত প্রমাণসমূহ অন্বেষণ করুন।

কুরআনের আলোয়

হাদিসের আলোয়

আলেমদের দৃষ্টিতে

১. আল্লাহর অনুগ্রহে আনন্দ করার নির্দেশ

সূরা ইউনুস (১০:৫৮): "বলুন, আল্লাহরই অনুগ্রহ (فضل) ও তাঁরই দয়ায় (رحمة), সুতরাং এতেই তারা আনন্দিত হোক। এটি তারা যা সঞ্চয় করে, তার চেয়ে উত্তম।" এই আয়াতে আল্লাহ তাঁর 'فضل' ও 'رحمة' পেয়ে আনন্দ করার আদেশ দিচ্ছেন, যা মুফাসসিরগণের মতে স্বয়ং নবী (ﷺ)।

২. নবী (ﷺ) হলেন আল্লাহর 'فضل' ও 'رحمة'

সূরা আলে ইমরান (৩:১৬৪): "নিঃসন্দেহে আল্লাহ মুমিনদের উপর এক মহান অনুগ্রহ করেছেন, যখন তিনি তাদের মাঝে তাদের মধ্য থেকেই একজন রাসূল পাঠিয়েছেন।"

সূরা আল-আম্বিয়া (২১:১০৭): "এবং আমি তো আপনাকে সমগ্র বিশ্বের জন্য রহমত স্বরূপই প্রেরণ করেছি।"

৩. নবীদের জন্মদিনের গুরুত্ব

সূরা মারইয়াম (১৯:১৫): আল্লাহ হযরত ইয়াহইয়া (আঃ)-এর জন্মদিনে সালাম পাঠান: "তাঁর উপর সালাম যেদিন তিনি জন্মগ্রহণ করেন..."

সূরা মারইয়াম (১৯:৩৩): হযরত ঈসা (আঃ) বলেন: "এবং আমার উপর সালাম যেদিন আমি জন্মগ্রহণ করেছি..."

১. সোমবার রোজা রাখার মাধ্যমে উদযাপন

সহীহ মুসলিমে বর্ণিত, যখন নবী (ﷺ) কে সোমবার রোজা রাখা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলো, তিনি বললেন: "এই দিনে আমি জন্মগ্রহণ করেছি এবং এই দিনেই আমার উপর কুরআন নাযিল হয়েছে।" এটি প্রমাণ করে যে, ইবাদতের মাধ্যমে নিজের জন্মদিন পালন করা নবীর সুন্নত।

২. আবু লাহাবের শাস্তি লাঘব

ইমাম বুখারী (রহঃ) বর্ণনা করেন যে, আবু লাহাবের আযাব প্রতি সোমবার হালকা করা হয় কারণ সে নবী (ﷺ) এর জন্মের খবরে আনন্দিত হয়ে তার দাসীকে মুক্ত করে দিয়েছিল। যদি একজন কাফের নবীর জন্মদিনে খুশি হওয়ার জন্য পুরস্কার পেতে পারে, তবে একজন মুমিনের প্রতিদান কেমন হবে?

১. ইমাম জালালুদ্দিন সুয়ূতী (রহঃ)

তিনি মিলাদকে একটি 'বিদ'আতে হাসানা' (উত্তম উদ্ভাবন) বলেছেন এবং এর আয়োজনকারীদের জন্য সওয়াবের কথা বলেছেন, কারণ এতে নবী (ﷺ) এর প্রতি আনন্দ ও ভালোবাসা প্রকাশ পায়।

২. হাফিজ ইবনে হাজার আসকালানী (রহঃ)

তিনি বলেন, যদি মিলাদে শুধুমাত্র পুণ্যময় কাজ করা হয়, তবে এটি একটি উত্তম বিদআত। তিনি আরও বলেন, আল্লাহর নেয়ামতের দিনে শুকরিয়া আদায় করা উচিত এবং নবী (ﷺ) এর আগমনের চেয়ে বড় নেয়ামত আর কী হতে পারে?

নবী (ﷺ) এর জীবনপঞ্জি

তাঁর জীবনের কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।

৫৭০ খ্রিষ্টাব্দ

পবিত্র মক্কা নগরীতে জন্মগ্রহণ।

৬১০ খ্রিষ্টাব্দ

হেরাগুহায় প্রথম ওহী লাভ এবং নবুয়ত প্রাপ্তি।

৬২২ খ্রিষ্টাব্দ

মক্কা থেকে মদীনায় হিজরত।

৬৩০ খ্রিষ্টাব্দ

মক্কা বিজয়।

৬৩২ খ্রিষ্টাব্দ

বিদায় হজ এবং পবিত্র মদীনায় ওফাত।

বিশ্বজুড়ে উদযাপন

বিভিন্ন দেশে মিলাদ পালনের রীতিনীতি।

দক্ষিণ এশিয়া

বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তানে জলসা, জুলুস (শোভাযাত্রা), এবং খাবার বিতরণের মাধ্যমে জাঁকজমকভাবে পালিত হয়।

মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা

মিশর, মরক্কোর মতো দেশগুলোতে নাশিদ, কাসিদা পাঠ এবং পারিবারিক সমাবেশের মাধ্যমে অনাড়ম্বরভাবে পালিত হয়।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া

ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়ায় মসজিদ-ভিত্তিক অনুষ্ঠান, সীরাত আলোচনা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

দরুদ ও সালাম

নবী (ﷺ) এর প্রতি ভালোবাসা প্রকাশের শ্রেষ্ঠ মাধ্যম।

দরুদ কাউন্টার

0